ইরানকে না থামালে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতো : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তা বড় ধরনের পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর স্কাই নিউজের।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন।
ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী জার্মানি।
এক প্রশ্নের জবাবে মের্ৎস বলেন, গত দুই দিন ধরে জার্মানিতে যে অবস্থান ব্যক্ত করেছি, সেটিই পুনর্ব্যক্ত করছি—ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে জার্মানি।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরানের শাসন পরিবর্তনের পর কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়েও ভাবতে হবে। পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মতে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েলের মধ্যে যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, ইউরোপ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মের্ৎস আরও বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনের পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী জার্মানি।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি করানো তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শুরুতে তার ধারণা ছিল এই সংঘাতের সমাধান তুলনামূলক সহজ হবে, তবে বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের মতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বিরোধ ও গভীর বিদ্বেষ রয়েছে, যা সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবনে অনেক বিরোধ দেখেছি, কিন্তু এদের মধ্যে যে মাত্রার বিদ্বেষ রয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ মাত্রার।
যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহেই হাজার হাজার সেনা নিহত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার সেনা এই যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের সমঝোতায় দুই পক্ষেরই সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তার নির্বাচনে অনিয়ম না হলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হতো না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক