নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলিকে নিজের আসনেই হারালেন বালেন্দ্র শাহ
নেপালের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের জোয়ারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শক্তিশালী নেতা কেপি শর্মা ওলিকে তার নিজের নির্বাচনি আসনেই পরাজিত করেছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ। শনিবার (৭ মার্চ) নেপাল নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২২ সালে কাঠমান্ডুর প্রথম স্বতন্ত্র মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসা বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেও পরিচিত, এখন নেপালের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছেন। তার এই জয়কে সাম্প্রতিক নেপালি রাজনীতির অন্যতম নাটকীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপা জেলায় নিজ নির্বাচনী আসনে শাহ প্রায় ৫৯ হাজার ৫০০ ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি পেয়েছেন মাত্র ১৬ হাজার ৩৫০ ভোট। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হওয়ায় শাহের জয় নিশ্চিত বলে জানিয়েছে এএফপি। শুধু নিজ আসন নয়, সারা দেশেই শাহের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি’ ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘোষিত ৫৯টি আসনের মধ্যে শাহের দল পেয়েছে ৪৮টি। যেখানে নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে সাতটি এবং ওলির মার্ক্সবাদী দল পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। মাওবাদী গেরিলা নেতা পুষ্প কমল দাহালের দল জিতেছে মাত্র একটি আসনে।
এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঠিক এমন এক সময়ে, যখন ছয় মাস আগে হওয়া সহিংস আন্দোলনে ওলির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে তীব্র গণবিক্ষোভে রূপ নেয়, যাতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক চন্দ্র দেব ভট্ট বলেন, “এটি এক ধরনের ভূমিধস জয় হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে শাস্তি দিতেই জনগণ এই রায় দিয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যক্ষ ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল সোমবারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে আনুপাতিক ভোট গণনায় অন্তত আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এদিকে বালেন্দ্র শাহের সমর্থকেরা কাঠমান্ডুর রাস্তায় উদযাপন শুরু করলেও দলের উপ-সভাপতি ডিপি আরিয়াল সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)