‘সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ইরানের নিজস্ব বিষয়, বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দেশটির জনগণের বিষয় এবং এতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
স্থানীয় সময় রোববার (৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। নতুন নেতা নির্বাচন ইরানের জনগণের বিষয়, অন্য কারও নয়। খবর আনাদোলুর।
তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সরাসরি জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা থাকা উচিত।
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আলেম আহমাদ আলামোলহোদা জানান, দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ইতোমধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছে। তবে নির্বাচিত ব্যক্তির নাম তখন প্রকাশ করা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয় এবং এটি গোপনও নয়। তিনি জানান, রাশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানকে সহায়তা করছে, তবে সামরিক তথ্যের বিষয়ে বিস্তারিত তার জানা নেই।
অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগিতা রয়েছে। তবে রাশিয়া যদি ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকে, তা খুব কার্যকর হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের জনগণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
আরাঘচি আরও দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না; বরং তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার খবরও নাকচ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের নিচে সীমিত রেখেছে এবং তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক