স্বর্ণের দাম স্থির, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ডলার ও বন্ডে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেলের বাজারে অস্থিরতার সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে স্বর্ণের পরিবর্তে ডলার ও উচ্চ সুদের বন্ডে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্বর্ণের দাম এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে তা কমে প্রায় ৫ হাজার ১০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
অন্যদিকে একই সময়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। খবর আনাদোলুর।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় চলতি বছরে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
জার্মানির বায়রয়থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থরস্টেন পোলাইট বলেন, অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নগদ অর্থ বা তরল সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
পোলাইট বলেন, এখন অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের বদলে ডলার বা ইউরো হাতে রাখতে চাইছেন, যাতে প্রয়োজনের সময় সহজে লেনদেন করা যায়।
বিশ্লেষকরা আরও জানান, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদ স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আইএনজি ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক ইভা মানথে বলেন, শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ সুদের কারণে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে গেছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরে ১ হাজার টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড সুদের হার কমায় অথবা ডলার দুর্বল হয়, তাহলে স্বর্ণের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ডলার প্রতি আউন্স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক