ইরানের ড্রোন কারখানাগুলোতে হামলার দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে ওইসব স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘নরকতুল্য’ হামলা চালাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ড্রোন তৈরি করা হতো। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্পের মতে, ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে ইরানের ড্রোন ভাণ্ডার এখন তাদের মোট সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছে এখন খুব সামান্যই অস্ত্রশক্তি অবশিষ্ট আছে। গতকাল পর্যন্ত আমরা তাদের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছি, তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’
ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা করতে চায়—এমন গুঞ্জন উঠলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান একটি ‘বাজে চুক্তি’ করতে চাইছে, যার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত নন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হয়তো কোনো এক পর্যায়ে আলোচনায় বসবে, তবে আপাতত পুরো পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ‘পুলিশিং’ বা পাহারায় রাখার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যদিও ইরান দাবি করেছে, এই প্রণালি কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ, বাকি বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী তেহরান, হামাদান এবং ইসফাহানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর বিপরীতে ইরানের পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে ট্যাঙ্ক ও স্থলবাহিনী মোতায়েনের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি শিশু।
বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশন লক্ষ্য করে ভয়াবহ রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববাজার শান্ত করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শেষ হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক