বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে : ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে কার্যত বন্ধ থাকা এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইরান ওই অঞ্চলে ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তাদের ওপর হামলার জবাব দিচ্ছে।
ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে মার্কিন হুমকি কার্যকর করা হয়... তবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এটি আর খোলা হবে না।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং যেসব কোম্পানিতে মার্কিন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হানা হবে।’ দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম 'কপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে।
ইরানি বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কিছু জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজগুলো এই জলপথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে দেওয়া ‘সতর্কবার্তা’ মানতে ব্যর্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান তাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও সতর্ক করেছে যে, যেসব দেশ তাদের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনে’ যোগ দিয়েছে, তাদের জাহাজগুলো তারা আটকে দেবে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে। পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আর কখনোই ‘যুদ্ধপূর্ব অবস্থায়’ ফিরে যাবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক