হরমুজ প্রণালি খুললেও দীর্ঘদিন অস্থিরতা থাকবে
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও বিশ্ববাজারে এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জার্মান শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ-লয়েডের কর্মকর্তা নিলস হাউপ্ট বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও লজিস্টিকস সংকট তখনই শুরু হবে।
তার মতে, প্রণালি খুলে গেলেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে না। তখন শত শত জাহাজ একসঙ্গে উপসাগরীয় বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জাহাজ ওমান উপসাগরে অপেক্ষা করছে।
অনেক জাহাজ বিকল্প পথ হিসেবে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার দক্ষিণে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ৪০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের জ্বালানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়, ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাসের পর মাস সময় লাগতে পারে।
ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রণালি খোলা নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের সময় জাহাজে হামলার ঘটনায় ঝুঁকি বেড়েছে এবং বীমা খরচ ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেরিটাইম খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে অনেক কোম্পানি বিকল্প বাণিজ্য পথ খুঁজতে বাধ্য হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে এই প্রণালির গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক