‘৫ ডলারের জ্বালানিও সস্তা মনে হবে’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কতা
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং শিগগিরি বর্তমান দামের জন্যই আফসোস করতে হতে পারে মার্কিন নাগরিকদের। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সময় রোববার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, বর্তমান জ্বালানির দাম উপভোগ করুন। তথাকথিত ‘অবরোধ’ চলতে থাকলে শিগগিরই ৪ থেকে ৫ ডলার দামের জ্বালানির জন্য নস্টালজিক হতে হবে। খবর আনাদোলুর।
পোস্টে তিনি হোয়াইট হাউজের আশেপাশের পেট্রোল পাম্পে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ৪ দশমিক ১০ থেকে ৫ দশমিক ৮০ ডলার দেখানো একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করেন।
তার এই মন্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম উচ্চপর্যায় থাকতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দাম বর্তমান অবস্থায় থাকতে পারে অথবা সামান্য বাড়তে পারে।
গালিবাফের মন্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা দেয়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া সব ধরনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর হবে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। কয়েক দফা আলোচনা ও প্রস্তাব বিনিময় হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
দুই পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য অমীমাংসিত রেখেই বৈঠক শেষ করে এবং ভবিষ্যতে আরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর ইঙ্গিত দেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই আলোচনা চলছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক