শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের পথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল : ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালের’ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দ্রুত চুক্তির শর্তগুলো মেনে নেওয়ার জন্য তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খবর সিএনএনের।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিরা সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যার মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও যুক্ত থাকবেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়েছে—যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন! তারা ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা মোটেও শোভনীয় নয়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্প বিদ্রুপ করে বলেন, ইরান সম্প্রতি প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। কারণ আমাদের নৌ-অবরোধ আগে থেকেই এটি বন্ধ করে রেখেছে। তারা না বুঝেই আমাদের সাহায্য করছে। এতে ইরানের প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি নেই। অনেক জাহাজ এখন তেল নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কার দিকে যাত্রা করছে।
চরম হুঁশিয়ারি : ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’
আলোচনা ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি। আমি আশা করি তারা এটি গ্রহণ করবে। যদি তারা তা না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। আর কোনো উদারতা দেখানো হবে না (নো মোর মিস্টার নাইস গাই)!
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, যদি তারা চুক্তি না মানে, তবে গত ৪৭ বছর ধরে যা করা উচিত ছিল, তা করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ইরানের এই ‘কিলিং মেশিন’ বন্ধ করার সময় এসেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক