বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া, রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ল যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে চড়া জ্বালানি তেলের দাম। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তেলের দাম সামান্য কমলেও আগের দিনের বড় উল্লম্ফনের পর এখনও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। খবর রয়টার্সের।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেল প্রতি ১৫ সেন্ট কমে ১০১ দশমিক ৭৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৪ সেন্ট কমে হয়েছে ৯২ দশমিক ৮২ ডলার। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় ধরনের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারেরও বেশি বেড়েছিল।
আরও পড়ুন : মার্কিন রণতরীতে খাদ্যসংকট, গাজর সেদ্ধ ও শুকনো মাংস খাচ্ছেন সেনারা
আরও পড়ুন : আলোচনার পথে তিন বাধার কথা জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
আরও পড়ুন : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কি রোববারই শেষ হচ্ছে?
আরও পড়ুন : হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক বোমা’ পেতে রেখেছে ইরান, সরাতে লাগবে ৬ মাস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের উত্তেজনা কমেনি। বুধবার ইরান নতুন করে দুটি জাহাজ জব্দ করায় এই কৌশলগত জলপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও এশিয়ার জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো এখন মার্কিন তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানি প্রতিদিন ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল বেড়ে রেকর্ড ১২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কমে গেছে।
ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি অর্থহীন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও এর কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। ফলে যেকোনো মুহূর্তে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা জিইয়ে রাখছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক