যে কারণে সস্তা গাড়িতে চড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়
যার ব্যক্তিগত গ্যারেজে শোভা পায় লেক্সাস এলএম ৩৫০এইচ, বিএমডব্লিউ আই৭ কিংবা রেঞ্জ রোভার অটোবায়োগ্রাফির মতো কোটি কোটি রুপির সব বিলাসবহুল গাড়ি, তিনি কি না চড়ছেন মাত্র ৮ লাখ রুপির এক সাধারণ গাড়িতে! তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের জনপ্রিয় মেগাস্টার চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয়ের (থালাপথি বিজয়) একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলেছে। ছবিতে তাকে অত্যন্ত সাধারণ ও পুরোনো ধাঁচের একটি ‘মহিন্দ্রা বোলেরো’ গাড়ি নিজে ড্রাইভ করতে দেখা গেছে।
বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই তারকার হঠাৎ এমন সস্তা গাড়ি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ প্রশাসনিক কারণ। জানা গেছে, তামিলনাড়ুর গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের প্রশাসনিক কাজ ও মাঠপর্যায়ের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে ৪০টি মহিন্দ্রা বোলেরো (এসইউভি) কেনা হয়েছে। সরকারি বহরের সেই গাড়িগুলো পরিদর্শন করতে গিয়েই গাড়িটির প্রেমে পড়েন এবং নিজে চালকের আসনে বসেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। খবর এনডিটিভির।
ব্যক্তিগতভাবে কোটি টাকার ‘ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার’ ব্যবহার করলেও সরকারি কাজে কেন এই বোলেরো-কে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ-
এসইউভি বাজারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী
বর্তমানে ভারতের বাজারে মডার্ন কম্প্যাক্ট এসইউভিগুলোর দাম যখন আকাশছোঁয়া, সেখানে মহিন্দ্রা বোলেরোর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয় মাত্র ৮ লাখ রুপি থেকে। কম দাম হওয়া সত্ত্বেও এর বডি-অন-ফ্রেম গঠন অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে ফিচার বা চাকচিক্যের চেয়ে যারা স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতাকে বেশি প্রাধান্য দেন, তাদের জন্য এটিই সেরা পছন্দ। সরকারি কোষাগারের টাকা সাশ্রয় করে বড় বহর তৈরির জন্য এটি একটি দারুণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।
আধুনিক ক্রসওভার গাড়িগুলো দেখতে সুন্দর হলেও গ্রামের ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তায় সেগুলো বেশ নাজুক। কিন্তু বোলেরো তৈরিই হয়েছে খাঁটি ‘ইউটিলিটি’ যান হিসেবে। এর ল্যাডার-ফ্রেম চ্যাসিস, উঁচু গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং শক্ত সাসপেনশন (পেছনে কামানি পাতা বা লিফ স্প্রিং যুক্ত) একে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শক্তি যোগায়। কাদা, পাথর কিংবা খানাখন্দে ভরা গ্রামের রাস্তা—বোলেরো চলে সর্বত্র।
সহজ মেকানিজম
গাড়িটির ৩-সিলিন্ডার ডিজেল ইঞ্জিনটি (যা ৭৬ হর্সপাওয়ার ও ২১০ এনএম টর্ক উৎপাদন করে) বাস্তব রাস্তায় অত্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয়ী। এর মেকানিক্যাল পার্টস খুব সাধারণ হওয়ায় গ্রামীণ বা আধা-শহুরে এলাকার যেকোনো গ্যারেজেই এটি সহজে মেরামত করা যায়। সস্তা খুচরা যন্ত্রাংশ ও দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের কারণে সরকারি কাজের জন্য এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও কম খরুচে।
অভিনয় জগত কাঁপিয়ে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয় মাঠপর্যায়ের মানুষের সাথে সংযোগ বাড়াতে ও গ্রামীণ ভারতের এই ‘লাইফলাইন’ গাড়িটির উপযোগিতা যাচাই করতেই মূলত এই উদ্যোগ নিয়েছেন, যা সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক