যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ‘খুব কাছাকাছি’ : জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা এখন ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে, তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, দুই দেশ এখনও কয়েকটি জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাঠামোতে সম্মত হয়েছে। তবে সেটি এখনও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় সবচেয়ে বড় ইস্যুগুলোর একটি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের মজুত ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে হবে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইরান ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই’ আলোচনা করছে।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে দুই দেশ সমঝোতার খুব কাছে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসেনি।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও পড়েছে। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো, ডেমোক্র্যাট নেতারা এবং কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্য যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে ‘বাধাহীন’ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হতে পারে। এছাড়া ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন সরিয়ে নিতে হবে।
চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নিতে পারে এবং তেহরানকে আবারও তেল রপ্তানির সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্পকে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া দেখানো হয়েছে, তবে তিনি এখনও তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি আরও কয়েকদিন সময় নিতে পারেন।
এদিকে বুধবার (২৭ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি কথিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রকাশ করে। সেখানে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর কথা উল্লেখ ছিল।
তবে হোয়াইট হাউস ওই খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে দোষারোপ করছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার পর তারা ওই অঞ্চলে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে, দেশটির বাহিনী একটি মার্কিন উড়োজাহাজ বা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সেই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন উড়োজাহাজ ভূপাতিত হয়নি। আমাদের সব আকাশযান নিরাপদ রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক