১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামল স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে গেছে। তেলের এই চড়া মূল্য বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাকে উসকে দিয়েছে। সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের বাজারে। আজ বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে গত ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ বেলা ১১ টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের (আকরিক সোনা) দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৬ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ২৩ মার্চের পর সোনার সর্বনিম্ন দর। অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘টেস্টিলাইভের’ বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, বাজারে মূলত সেটিরই একটি বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। ব্যাংকগুলোর নীতিমালায় সুদের হার বাড়ানোর একটি স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এই বাজার অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকস্মিক ভূরাজনৈতিক সংঘাত। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাহিনী আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাপাচি’ সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে গতকালই ইরানে বিমান হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আজ বুধবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের আরও ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এই সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাজারে দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ মনে করা হলেও, সুদের হার বেশি থাকলে লভ্যাংশহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, যার ফলে এর দাম কমতে শুরু করে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি বলে ধরে নিচ্ছেন।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার। এর মধ্যে আজ রাতের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবারের উৎপাদনকারী মূল্যসূচক রিপোর্ট অন্যতম। এই প্রতিবেদনগুলো থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী দিনের মুদ্রা নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।
বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক সোনার ভবিষ্যৎ দামের পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, সোনার দাম যদি ৪ হাজার ১০০ ডলারের স্তর ভেঙে আরও নিচে নেমে যায়, তবে এর পতনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্স প্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
স্বর্ণের পাশাপাশি আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় পতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭ দশমিক ৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২০৯ দশমিক ৩৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক