ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর গোয়েন্দাগিরি করছে ইসরায়েল?
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েল একমত না-ও হতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর আড়ি পাতছে—এমন একটি বিস্ফোরক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। খবর ডেইলি মেইলের।
ইরানের সঙ্গে আলোচনাকারী মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর ইসরায়েলের এই আড়িপাতার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা শঙ্কিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন এখন ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শত্রুপক্ষের চেয়েও বড় গোয়েন্দা হুমকি হিসেবে গণ্য করছে।
প্রতিবেদনটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করছে; যার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের প্রধান মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবিসহ অন্যান্য মার্কিন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা।
ফক্স নিউজের অ্যাঙ্কর জেসি ওয়াটার্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলের এই গোয়েন্দা হুমকির বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে চেপে ধরেন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর দেশটির এই আড়িপাতার বিষয়ে তিনি কতটা চিন্তিত, তা জানতে চান।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে অনেক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, তবে তিনি এটাও মেনে নেন—এমন কিছু পরিস্থিতিও আসে যেখানে এই স্বার্থগুলো ভিন্ন হয়।
গোয়েন্দাগিরির অভিযোগগুলো এড়িয়ে গিয়ে জেডি ভ্যান্স উত্তর দেন, ‘আমি মনে করি স্পষ্টতই ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, তবে আমাদের এমন কিছু পরিস্থিতিও রয়েছে যেখানে আমাদের স্বার্থের ভিন্নতা ঘটে।’
ভ্যান্স এরপর উল্লেখ করেন, ইরানে ট্রাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—দেশটি যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও স্বীকার করেন, আসন্ন চুক্তিটি ইসরায়েলের পছন্দ না-ও হতে পারে।
জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি (ট্রাম্প) সঠিক। আমরা ইরানের পারমাণবিক চুক্তির একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করতে পারি। এখন ইসরায়েল এটি পছন্দ করতেও পারে, আবার না-ও করতে পারে, তবে মৌলিকভাবে আমরা মনে করি, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোত্তম স্বার্থে।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে এবং ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরকে অভিযুক্ত করছে।
গত রোববার (১৪ জুন) ইরান ইসরায়েলে হামলা চালায় এবং বৈরুতে ইসরায়েলি হামলাকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে তারা লেবাননের এই লড়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হিসেবে যুক্ত করে।
এর জবাবে সোমবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিমান হামলা চালায়, যার ফলে তেহরান, ইস্পাহান এবং অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, হিজবুল্লাহর সমর্থনে ইরান ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর তিনি এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, তিনি এই আক্রমণ স্থগিত করবেন, পাশাপাশি সতর্ক করে দেন—ইরানের যেকোনো নতুন হামলার জবাব সর্বোচ্চ শক্তির মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এদিকে, ট্রাম্প তেহরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধি বন্ধ করতে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। জানা গেছে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, এই হামলা যদি ইরান চুক্তিকে নস্যাৎ করে—তবে তিনি ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যে প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে তা হলো—পারমাণবিক অস্ত্রের প্রচেষ্টা ত্যাগ করা এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সমর্পণ করা।
তবে ইরানি শাসকগোষ্ঠী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান চায়।
গোয়েন্দাগিরির অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি দূতাবাস নিউইয়র্ক টাইমসের দাবিগুলোকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, তাদের দেশ মার্কিন কর্মকর্তা বা সংস্থাগুলোর ওপর গোয়েন্দাগিরি করে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ছিল নিয়ন্ত্রণহীন।
দুজন মার্কিন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা টাইমসকে বলেছেন, ইসরায়েলে বা ইসরায়েলি সমকক্ষদের সঙ্গে কর্মরত মার্কিন কর্মীরা এই পাল্টা-গোয়েন্দা হুমকির বিষয়টি জানতেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক