লেবাননে চলমান সংঘাত প্রধান আলোচ্য বিষয় : ইরান
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ইসরায়েল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননে চলমান সংঘাতের বিষয়টিই আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ইরানের অবরুদ্ধ (ফ্রিজ করা) তহবিল এবং দেশটির তেল বিক্রির মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
রোববার (২১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী লেবাননে তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে চলেছে, আজকের আলোচনায় এই বিষয়টিই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।’
তেহরান গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া মাসের পর মাসব্যাপী শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতও বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।
লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান গতকাল শনিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে সন্ধ্যার পর লেবাননে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি এবং ইসমাইল বাঘাই জানান, শনিবার থেকে লেবাননে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাঘাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে আজ রোববার অনুষ্ঠেয় এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ইরানি প্রতিনিধিদল। সুইজারল্যান্ড থেকে তিনি বলেন, এই বৈঠকটি সকালে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে পৃথক বৈঠক এবং বিকেলে একটি চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের আকারে অনুষ্ঠিত হবে, যার অর্থ চারটি দেশের প্রতিনিধিদলই একই কক্ষে উপস্থিত থাকবে।
ইসমাইল বাঘাই আরও যোগ করেন, তেহরান এই আলোচনায় তাদের অবরুদ্ধ এবং নাগালের বাইরে থাকা তহবিলের বিষয়টিও তুলে ধরবে। তিনি বলেন, ‘ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদগুলো সহজলভ্য করার বিষয়ের পাশাপাশি ইরানি তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ইস্যু করার বিষয়টিও এজেন্ডায় থাকবে।’
ইরান অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবরুদ্ধ সম্পদের সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটি আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে অবরুদ্ধ রয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে মার্কিন সমর্থিত শাহ সরকারের পতন ঘটেছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক