ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্টের হামলা : সেন্টকম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গতকাল শনিবার (২৭ জুন) ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের চলমান হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার এ হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গতকাল ২০ লাখ ব্যারেল ক্রুড জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালায়। সেটি পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সেন্টকম আকাশ থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওটি পোস্ট করে। তবে এটি কিছুটা ঝাপসা ছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার।
অপরদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কেশম ও সিরিক এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে স্মারকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একাধিকবার একে-অপরের বিরুদ্ধে এনেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে শত শত জাহাজ উপসাগরীয় এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তবে সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর জাহাজগুলো প্রণালিটি দিয়ে বের হওয়া শুরু করে। এতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়া কমতে শুরু করে তেলের দাম। এমন সময় হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা শুরু হলো।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক