কিয়েভে রাশিয়ার নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, শিশুসহ নিহত ৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভয়াবহ হামলায় শিশুসহ অন্তত আট জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। খবর বিবিসির।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, শত্রু পক্ষ আবারও পরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ সকালে আলো ফোটার পর রাজধানীর বিভিন্ন অংশে রুশ হামলার ধ্বংসযজ্ঞ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরের একাধিক স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বোমার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া আবাসিক ভবন ও অবকাঠামোর পাশে সারি সারি গাড়ি জ্বলতে দেখা গেছে। কিয়েভের সেন্ট্রাল বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি হোটেলেও আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের বেগ পেতে হয়।
এছাড়া শহরের একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাতভর কিয়েভের আকাশে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ট্রেসার ফায়ার ও ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিইশিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কিয়েভের বাসিন্দাদের জন্য এটি আরও একটি ভয়ানক রাত ছিল, যা তাদের বাঙ্কারে বা আশ্রয়কেন্দ্রে কাটাতে হয়েছে। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই রাশিয়ার প্রথম বড় মাপের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে মস্কো- এমন গোপন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর গত বুধবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের ওপর এই বিশাল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এদিকে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। পোলিশ সামরিক বাহিনী এটিকে ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পোল্যান্ড সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য, যার অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ান্তিনিভকা শহরে সম্প্রতি রুশ সেনারা প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। এই শহরটির পতন হলে তা রাশিয়ার জন্য পুরো দনবাস অঞ্চল দখলের পথ সুগম করবে। তবে ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি, তারা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে রুশ সীমান্ত থেকে অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর প্রধান রসদ সরবরাহ লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্মুখভাগ গত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক