হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ বুধবারও (১৫ জুলাই) সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার একদিনেই দাম বাড়ে ২ শতাংশ।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১.২ শতাংশ (৯৯ সেন্ট) বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫.৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ০.৮ শতাংশ (৬৪ সেন্ট) বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৯.৯৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি। খবর রয়টার্সের।
গত জুন মাসে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই শান্তি চুক্তি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমি জ্বালানি খাতের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে শেষের জন্য জমিয়ে রাখছি, তবে চূড়ান্তভাবে আমরা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেই আঘাত হানব।
এরই মধ্যে আজ ভোর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানি সক্ষমতা ধ্বংস করতে নতুন দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালি আবারও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। ইরানের সেনাবাহিনী আজ ভোরে জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন অস্ত্র ও সরঞ্জাম মজুত রাখার লজিস্টিক হাবগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
তেলের দাম কি ১০০ ডলার ছাড়াবে?
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফিলিপ নোভার সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেবা বলেন, আপাতত বাজারে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের এই সংঘাত যদি আরও তীব্র হয় তবে অদূর ভবিষ্যতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যদি হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৫ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে নেমে আসতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক