মোদিকে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতার হুঁশিয়ারি
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থায়নকারী অভিজিৎ দীপক দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করা হলে আন্দোলনের পরবর্তী দাবি হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।
দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, মোদিজি, আমি আবারও অনুরোধ করছি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করুন। অন্যথায় বিষয়টি শুধু তার পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এরপর আপনার পদত্যাগের দাবিও উঠবে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
অভিজিৎ আরও দাবি করেন, একজন ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রী কোটি কোটি ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি সরকার এমন একজন মন্ত্রীকে রক্ষা করতে থাকে, তাহলে নির্বাচনে জনগণ তার জবাব দেবে।
অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ৩৪ দিন লেগেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষায়, সরকার এখনও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
অভিজিৎ আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার যদি আন্দোলন দমনে ব্যারিকেড ও জ্যামার বসানোর মতোই গুরুত্ব দিত, তাহলে ২২ জন শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আবারও সিজেপির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানিয়েছেন, তার সরকারি বাসভবন বা দপ্তরে সংগঠনটির সঙ্গে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, সরকার এখন পর্যন্ত চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সিজেপি সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, আলোচনা জন্তর মন্তরে অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো একটি নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে।
সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তারা সরকারকে জন্তর মন্তরে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি। তার অভিযোগ, সরকার আন্দোলনকারীদের নাড্ডার বাসভবনে যেতে বললেও তারা জনগণের আন্দোলনের স্থান ছেড়ে সেখানে যাবে না।
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার স্থান নিয়ে এখনও অচলাবস্থা কাটেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক