ট্রাম্পের নতুন শুল্কের জবাব দিতে প্রস্তুত কানাডা : মার্ক কার্নি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির তোপে পড়তে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৯ আগস্ট থেকে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জবাবে মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে পাল্টা ব্যবস্থার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। খবর এবিসি নিউজের।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রিন্স এওয়ার্ড আইল্যান্ডে দেশের বিভিন্ন প্রদেশের প্রিমিয়ার ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্ক কার্নি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক চুক্তিতে পৌঁছাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা জোরদার করছে অটোয়া। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হয়ে শুল্ক কার্যকর করা হলে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়েছে।
কার্নি আরও উল্লেখ করেন, অস্বাভাবিক শুল্কের হুমকি দেওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সমঝোতা কৌশল হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে এখনই কোনো অগ্রিম প্রতিক্রিয়া না দেখানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, আমরা সেভাবেই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
ট্রাম্প ঘোষিত এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে কানাডার মধু, মদ, সিমেন্ট, দুগ্ধজাত পণ্য, কাঠ ও হকি স্টিকের মতো দৈনন্দিন পণ্যসমূহ। অবশ্য জ্বালানি, পটাশ, মাছ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানগুলোকে আপাতত এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ‘ইউএসএমসিএ’ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র পুনর্বহাল না করায় নতুন করে গড়ে ওঠা এই জটিলতার সমাধান খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
কানাডার বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘দেজারদ্যাঁর’ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার বার্ষিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি কানাডীয় ডলারের (প্রায় ১ হাজার ৯৮০ কোটি মার্কিন ডলার) রফতানি বাণিজ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মোট বার্ষিক আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে অটোয়া কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথে হাঁটছে বলে জানান কার্নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক