ইসলাম গ্রহণ করায় দুই বোনকে গৃহবন্দি, মুক্তির নির্দেশ ও জরিমানা হাইকোর্টের
স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখার অপরাধে বাবা এবং উত্তর প্রদেশ সরকারকে যৌথভাবে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের এলাহবাদ হাইকোর্ট। বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ রিটের শুনানিতে এ রায় দেন। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের এই ২৫ লাখ রুপি আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে দুই বোনকে সমানভাগে ভাগ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে মেয়েদের পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় নথি হস্তান্তরের জন্য বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুই বোন হলেন ৩৫ বছর বয়সী আনশু ভাটিয়া (বর্তমান নাম আমিনা আনশু ভাটিয়া) ও ২০ বছর বয়সী দিয়া ভাটিয়া (বর্তমান নাম জোয়া দিয়া ভাটিয়া)। আনশু ২০২০ সালে এবং দিয়া ২০২১ সালে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
জবানবন্দিতে তারা জানান, আত্মিক শান্তি ও নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা থেকে তারা ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। এতে কোনো প্রলোভন, ভয়ভীতি বা জোরজবরদস্তি ছিল না। তবে ধর্ম পরিবর্তনের বিষয় জানতে পেরে তাদের বাবা নিজ বাড়িতেই বন্দি করে রাখেন।
আদালতে উপস্থিত হয়ে দুই বোন অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্বিধাহীনভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শুনে আদালত নিশ্চিত হন, কোনো ধরনের চাপের মুখে তারা এই সিদ্ধান্ত নেননি।
বিচারপতি সন্দীপ জৈন তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম বিশ্বাস, বাসস্থান ও সঙ্গী নির্বাচনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার ওপর পারিবারিক বা সামাজিক শাসন চাপিয়ে দেওয়া যায় না। আইনসম্মত অনুমতি ছাড়া কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
শুনানিতে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার আবেদনটির বিরোধিতা করে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েদের বাবা জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তরের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও উত্তর প্রদেশ ধর্মান্তর বিরোধী আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সরকারের দাবি ছিল, এটি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। মেয়েদের মুক্ত করলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানান, মূল অপরাধমূলক মামলার তদন্ত আইনের নিজস্ব নিয়মে চলবে। তবে সেটির অজুহাতে কাউকে বেআইনিভাবে গৃহবন্দি রাখা সমর্থনযোগ্য নয়। সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় এবং অবৈধ আটকে রাখাকে পরোক্ষ সমর্থন দেওয়ায় রাজ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থারও তীব্র সমালোচনা করেন হাইকোর্ট।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক