সংঘাত শুরুর পর ২০০টির বেশি ‘শত্রু বিমান’ ভূপাতিতের দাবি আইআরজিসির
চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি ‘শত্রু বিমান’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সম্প্রতি সংস্থাটির ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার।
মেজর জেনারেল ইজাদি এই সংঘাতকে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরানের শত্রুরা সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবেও দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে সফট ও কগনিটিভ যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানি জাতির সুদৃঢ় পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টার কারণেই শত্রু বিমানগুলোকে ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
ইজাদি বলেন, এই পদক্ষেপের প্রভাব ও পরিণতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
ইজাদি আরও দাবি করেন, এই সংঘাত ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল কিংবা দেশটিকে বিভক্ত করতে পেরেছে- এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
মেজর জেনারেল ইজাদি বলেন, ইরান শুধু বিভক্ত হয়নি ও ইসলামী ব্যবস্থাও দুর্বল হয়নি; বরং এ ঘটনার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ় প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার (১৭ আগস্ট) দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তেহরানের উচিত এখন ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা তুলে দেওয়া’। টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা চিন্তাভাবনায় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ট্রাম্প বলেন, আমার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই ও এই বিষয়ে আমার কোনো তাড়াহুড়োও নেই। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার দাবির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মারাত্মক লঙ্ঘনের কারণেই এই এমওইউ-এর সময়সীমা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, যেকোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মূলত জুন মাসে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধ শেষের আলোচনা চূড়ান্ত না হয়ে অচলাবস্থায় রূপ নেওয়ায় এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন, তেহরানের ‘নতুন সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ নীতির আলোকেও দেশের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে এবার আক্রমণাত্মক শক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক