কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত, চুক্তির দাবি ট্রাম্পের
কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, চুক্তির প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার শর্তে নতুন শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার শর্তে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও জানান, কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পটি আবার চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে তার মঙ্গলবারের ফোনালাপের পর। চলতি সপ্তাহে দুই নেতার এটি ছিল দ্বিতীয় দফার আলোচনা। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশ নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কঠিন ও গোপনীয় আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এর আওতায় পড়ত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রেও এই শুল্ক প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল।
কানাডার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, নতুন শুল্ক কাঠ, ওয়াইন ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো খাতগুলোতে কর্মসংস্থান কমানো এবং ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান নির্বাহী ক্যান্ডেস লেইং বলেন, বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এমন পণ্য রয়েছে, যেগুলো এতদিন শুল্কের আওতার বাইরে ছিল, কিন্তু এখন সেগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আলোচনায় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশ গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
এছাড়া একটি গাড়িতে কতটা মার্কিন উপাদান রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে আরও শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।
শুল্ক ছাড় হিসাব করার ক্ষেত্রে কোন দেশের তৈরি যন্ত্রাংশকে ‘উত্তর আমেরিকান কনটেন্ট’ হিসেবে গণনা করা হবে, তা নিয়েও মতপার্থক্য ছিল। ওয়াশিংটন শুধু যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উপাদান গণনার পক্ষে থাকলেও কানাডা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সব উপাদানকে হিসাবের আওতায় রাখার দাবি জানায়।
ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিলেও এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ এবং প্রধান বাণিজ্য আলোচক জেনিস শ্যারেট গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটনে আলোচনা চালিয়ে আসছেন।
এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর কানাডার পাল্টা শুল্ক, কয়েকটি প্রদেশের মার্কিন মদ বিক্রি না করা এবং কানাডার দুগ্ধ খাতের সুরক্ষাব্যবস্থাকে ওয়াশিংটনের প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছিল।
কানাডা সরকার জানিয়েছিল, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্পকে সহায়তা দেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করাসহ সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখা হবে।
এখন ট্রাম্প ঘোষিত সাময়িক স্থগিতাদেশের মধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করতে পারেন কি না, সেটিই নজরে রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক