উড়োজাহাজে তাণ্ডব, ডাক্ট টেপে বাঁধা সেই যাত্রী এবার মুখ খুললেন
যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজের ভেতরে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে এক যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে এবং ওই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে চলতি মাসের শুরুর দিকে। ৬৭ বছর বয়সী অ্যারিজোনার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লেইন লান্ডিন টেক্সাসের ডালাস থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কগামী একটি ফ্লাইটে ছিলেন।
মাঝ আকাশে তিনি বর্ণবাদী ও সমকামীবিরোধী মন্তব্যসহ নানা ধরনের আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন যাত্রী তাকে তার সিটে ধরে রাখেন এবং ডাক্ট টেপ দিয়ে হাত, মাথা ও শরীর বেঁধে ফেলেন।
পরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণের জন্য মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর বিমানবন্দরে যায়। সেখানে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
দ্য ব্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরদিন আদালতে হাজির করা হলে লান্ডিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলা এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের কার্যক্রমের অডিও পরে প্রকাশ্যে আসে। সেখানে লান্ডিন বলেন, ওই ঘটনার কিছুই তার মনে নেই। খবর দ্যা ডেইলি মেইলের।
অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর সময় তিনি জানতে চান, আমি কি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হামলা করেছি? পরে চশমা পরে অভিযোগপত্র পড়ার পর তিনি বলেন, ও মাই গড, কী বিপর্যয়। এর কিছুই আমার মনে নেই।
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে লান্ডিন জানান, মেয়ের নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার কাজে সহায়তা করতে এবং তার জন্মদিন উদ্যাপন করতে তিনি নিউইয়র্কে যাচ্ছিলেন।
লান্ডিন বলেন, আমি নিউইয়র্ক সিটিতে এসেছিলাম। কীভাবে মেরিল্যান্ডে এলাম, জানি না। আমার নিউ জার্সিতে নামার কথা ছিল।
পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং মাদক ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবর তার বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
ঘটনার সময় লান্ডিনের পাশের সিটে ছিলেন রাবাই জোনাথন কান। ধর্মীয় বিষয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত কান ডেইলি মেইলকে জানান, লান্ডিন তাকে গলা ধরে টেনেছিলেন, আঘাত করেছিলেন এবং তার ল্যাপটপ ভেঙে দিয়েছিলেন।
কানের দাবি, প্রথমে তাদের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। একপর্যায়ে লান্ডিন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাকে ও সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে গালাগালি শুরু করেন।
কান জানান, লান্ডিন নিজেকে একসময় খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর খ্রিস্টানদের কাছ থেকে বিচারমূলক আচরণ পাওয়ার অভিযোগে তিনি যিশুর প্রতি বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর কান ল্যাপটপে কাজ করার চেষ্টা করেন। তার দাবি, লান্ডিন আবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং ল্যাপটপের স্ক্রিনে আঘাত করতে থাকেন।
কানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে লান্ডিন তার বুক ও পেটে আঘাত করতে থাকেন এবং তাকে হুমকি দেন। এরপর ল্যাপটপ নিয়ে টানাটানির একপর্যায়ে সেটি ভেঙে যায় এবং কানের আগে থেকেই আহত একটি হাতেও আঘাত লাগে।
তবে লান্ডিন ঠিক কী বলেছিলেন, বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য ও সমকামীবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগের বিষয়ে কান নিজে সবকিছু স্পষ্টভাবে শুনেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি শুধু একজন পুরুষ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য শুনেছিলেন বলে জানান।
পরে লান্ডিন আবার কানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন কান। একপর্যায়ে লান্ডিন দুই হাত দিয়ে তার গলা ধরে ঠেলাঠেলি শুরু করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উড়োজাহাজে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া এবং দোকান ব্যবস্থাপক রিচার্ড ওলেনিকসহ কয়েকজন যাত্রী তখন লান্ডিনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা ডাক্ট টেপ ব্যবহার করে তাকে সিটের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
একপর্যায়ে লান্ডিন বাঁধন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অন্য যাত্রীরা তাকে ধরে রাখেন। পরে কান সিট পরিবর্তন করেন এবং উড়োজাহাজটি বাল্টিমোরে জরুরি অবতরণ করে।
উড়োজাহাজটি অবতরণের পর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা সেখানে যান। কান জানান, তিনি তাদের নিজের যোগাযোগের তথ্য দিয়েছেন, তবে এখনও তাদের কাছ থেকে কোনো যোগাযোগ পাননি।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লান্ডিন যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেই লং রিয়েলটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির টাকসন শাখায় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক