জাতিসংঘে ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক মানসিকতার’ তীব্র নিন্দা এরদোয়ানের
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এরদোয়ানের এই ভাষণের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
এরদোয়ান তার ভাষণে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধাপরাধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় আমরা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলাম। কিন্তু তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর দ্বিতীয় পর্যায় মেনে নিলেও ইসরায়েল গাজায় তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে না। পাশাপাশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দখলের কারণে পশ্চিম তীর অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এরদোয়ান গাজাকে ‘বর্তমানের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক গণহত্যামূলক মনোভাবের মুখোমুখি হয়েছি, যা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও যেন তৃপ্ত হয় না। মানবিকতা, দয়া বা বিবেকবোধসম্পন্ন কোনো মানুষই এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।
ভাষণে এরদোয়ান জাতিসংঘেরও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ৫১ বছর আগে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জাতিসংঘ সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানের ঘটনায় সংস্থাটি যেন অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের বৈঠকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি এ নেতাকে দেশটিতে প্রবেশের জন্য ভিসা না দেয়নি। এতে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। গত দুই বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, সবাই জেনে রাখুন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস সশরীরে আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, গত বছরের মতোই আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের দাবি তুলে ধরা অব্যাহত রাখব।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানোই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক