স্বর্ণের দামে বড় পতন, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে চড়া মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার উঁচুতে রাখতে পারে- এমন গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম তিন শতাংশেরও বেশি কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে, যা গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
সুইস ব্যাংক ইউবিএসের বাজার বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো জানান, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে- জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) কর্তৃক সুদের হার আবারও বাড়ানোর জোরালো আশঙ্কা। তিনি বলেন, বর্তমানে মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করলে নিশ্চিত ভালো মুনাফা বা সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে আলাদা কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে ব্যাংক বা বন্ডের মতো লাভজনক খাত ছেড়ে স্বর্ণে টাকা আটকে রাখার ঝুঁকি ও লোকসান (সুযোগ-ব্যয়) অনেক বেড়ে গেছে। আর এই কারণেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে দাম দ্রুত কমছে।
সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসন ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটির দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও বেড়েছে। জ্বালানির বর্ধিত মূল্যের কারণে সার্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি উসকে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। রূপা বা স্পট সিলভারের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৩৫ দশমিক ৮৮ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছেেএক হাজার ২৩৯ দশমিক ৬০ ডলারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক