ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
দুর্নীতির অভিযোগ এবং টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিজের পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি। খবর বিবিসির।
ভাষণে ভুচিচ দাবি করেন, দীর্ঘ নয় বছরের শাসনকালে সার্বিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি জানান, নিজের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির পক্ষ থেকে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভি স্যাড রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক গণঅসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম হয়। ওই রেলওয়ে স্টেশনটির সংস্কার কাজকে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তার সরকারের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ফলে ওই দুর্ঘটনাকেন্দ্রিক ক্ষোভ খুব দ্রুতই ভুচিচ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী টানা আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে রাস্তায় নেমে আসেন। সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগ কিংবা পুলিশের কঠোর দমনপীড়ন কোনো কিছুই এ আন্দোলন দমাতে পারেনি।
সার্বিয়ার সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আগামী অক্টোবরের শেষভাগে আগাম সংসদীয় নির্বাচন এবং এর এক মাসেরও বেশি সময় পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগের পূর্বে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ৪৯ জন বন্দিকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন, যার মধ্যে আন্দোলনকারী ২৩ জন শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফায় দায়িত্ব নেওয়া ভুচিচ গত এক দশক ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী চরিত্র ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্বিয়ার যোগদানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিলেন এই পপুলিস্ট নেতা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক