ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা চাইলো সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের ভোটার তালিকায় ব্যাপকভাবে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সংশোধনীর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে লাখ লাখ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকর্মীরা ইতোমধ্যে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সমালোচকদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পরামর্শে বা প্রেসক্রিপশনে কাজ করেছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিআই অবশ্য এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ ভোটার তালিকা সংশোধন সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে সরকার, ইসিআই এবং জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিশ জারি করেন। আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ের ওপর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য ইসিআই-এর তথ্যাদি সম্পর্কে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গত মাসে 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ভোটার তালিকা সংশোধন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের দুজন সদস্য অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন; এরপর থেকেই ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি-র তথ্য অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ মন্তব্য করে, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন শতভাগ সঠিক, আংশিক সঠিক বা ভুলও হতে পারে। কেবল তার ওপর ভিত্তি করে আজ আমরা কোনো আদেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই তাদের জবাব দেখতে চাই। আইন অনুসৃত হয়নি এমন ঘটনা যদি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তবে তা বাতিল করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো জাল ভোটার শনাক্ত করা এবং বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা।
তবে সমালোচকদের দাবি, এই অভিযানের কারণে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—বিশেষ করে মুসলমানরা—অনুপাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে একটি প্রতিবাদ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে এবং এর পরপরই দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম নেওয়া এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে সরানোর আন্দোলনে সফল হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিচ্ছেন।
সিজেপি শনিবার রাজধানীতে ‘ব্যাপক গণজমায়েত’-এর আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ঘিরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে সরকার-নির্ধারিত প্রতিবাদ এলাকার চারপাশে পুলিশ বেশ সতর্ক উপস্থিতি বজায় রাখছে। গত সপ্তাহে এখান থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক