কাতারের উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে চলাচলকারী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নৌবাণিজ্য পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও)। খবর আলজাজিরার।
সংস্থাটি জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) কাতারের মদীনাত আশ শামাল শহরের প্রায় ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পারস্য উপসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে বা মধ্যাঞ্চলে কোনো ট্যাঙ্কারে এ ধরনের হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সপ্তাহে প্রথম এবং অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এই হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জাহাজটির জাতীয়তা বা মালিকানার বিষয়েও সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কাতার সরকার তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইসিজেড) মধ্যে ঘটে যাওয়া এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে জাহাজে হামলা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বহন করত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অপরদিকে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে কড়াকড়ি অবরোধ বজায় রেখেছে। ইউকেএমটিও-এর হিসাব মতে, চলতি অক্টোবর মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি।
তবে অব্যাহত এসব হামলা ও উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ কমেনি; বরং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘কপলারের’ দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় দাঁড়ায় ১৮.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে (বিপিডি)। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসের দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক