এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ’ না করার শর্তে মুক্ত সিজেপির তিন নেতা
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। তবে আগামী এক বছর ‘শান্তিভঙ্গ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
আজ রোববার (১১ অক্টােবর) সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার (১০ অক্টােবর) দিল্লিতে উড়োজাহাজ অবতরণের পর সেখান থেকেই সিজেপির নেতাদের আটক করা হয়েছিল। পরে আজ রোববার তাদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে এই আটকের ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল সিজেপি।
শনিবার দিল্লিতে তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও রাজনীতিককে আটক করা হয়। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে পুলিশ। এর ফলে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদ জানান।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠিও শনিবার রাতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।
শনিবার দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার সকালে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে কাছাকাছি এলাকায় বাসও রাখা হয়েছিল।
এর আগে শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ শনিবারের বিক্ষোভের আগে মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা।
সিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে।
তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ঠেকাতে দিল্লিতে কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি।
অভিজিৎ দীপকে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ভারতে ফিরে এসে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন করছে।
অন্যদিকে, বিজেপি সিজেপিকে বিরোধী শক্তির একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেছে, সংগঠনটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীন দাবি করেছেন, বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশনায় ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে নৈরাজ্য ছড়ানো কারও অধিকার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনাথ সিং বলেন, জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হতে পারেন, কিন্তু তাদের জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক