বিশ্ব ইজতেমায় আমাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে : র্যাব
র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া ২৭টি দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য যেমন একটি মর্যাদার বিষয়, তেমনি এখানে আমাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত সাড়ে চার লাখ মুসল্লি সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা অলরেডি নিরাপত্তায় কাজ শুরু করেছি।’
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির কাজ শুরু করেছি। দুই ধাপে ইজতেমার ময়দানে তিন দিন করে আমাদের ডিপ্লয়মেন্ট থাকবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তায় ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইজতেমা ময়দানকে দুটি সেক্টরে ভাগ করে কার-মোটরসাইকেল-বোট প্যাট্রলিংয়ের পাশাপাশি আকাশ থেকে হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।’
বিশ্ব ইজতেমায় দুই পক্ষের জেরে কোনো ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে কিনা জানতে চাইলে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘ইজতেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পোশাকধারীর সঙ্গে সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য নিয়োজিত থাকবে। দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেও সতর্ক থাকবে র্যাব। ইজতেমার দুপক্ষের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। এসব ব্যাপারে তাদের আমরা বুঝিয়েছি।’
‘ইজতেমা প্রাঙ্গণে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সুইপিং টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে,’ বলেও জানান মহাপচিালক।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া আমরা মনিটর করছি। সত্যতা যাচাই ছাড়া কেউ কোনো নিউজ শেয়ার করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া গুজবের একটি বড় আখড়ায় তৈরি হয়েছে।’
এর আগে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি ইজতেমার ময়দানে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ১০ থেকে ১২ ও ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রাক-গোয়েন্দা নজরদারি, ইজতেমার সময় ফুল ডিপ্লয়মেন্ট এবং শেষেও মুসল্লিরা স্থান ত্যাগ পর্যন্ত আমাদের ‘কাভার্ড অ্যান্ড ওভার্ড’ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘কার-বাইক প্যাট্রলিংয়ের পাশাপাশি তুরাগ নদীতে বোট প্যাট্রলিং থাকবে। ১০টি অবজারভেশন পোস্ট থেকে পুরো এলাকায় নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া দুটি হেলিকপ্টার এবং প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে র্যাবের নজরদারি থাকবে। ইজতেমার বাইরের সড়কে আটটি পোস্ট স্থাপন করে ইজতেমায় আগত মুসল্লি এবং যানবাহন তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে মহাখালী থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত দুটি বাস সার্ভিস থাকবে র্যাবের। ইজতেমা মাঠে দুজন চিকিৎসকসহ চিকিৎসাকেন্দ্র থাকবে। ইজতেমার মাঠে ২০টি আর্চওয়ের মাধ্যমে প্রত্যেককে তল্লাশি করা হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক