হলি আর্টিজানে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের স্মরণসভা

ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিমের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাসাই গ্রামে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষচাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয় ব্লমস প্রাঙ্গণে স্মরণ সভায় মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) নিহত রবিউল করিম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিশেষায়িত এই বিদ্যালয়সহ কাটগ্রাম এলাকায় শিশুদের জন্য আরও একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন রবিউল। এ ছাড়া এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।
স্মরণসভায় পুলিশ সুপার বলেন, ‘রবিউল করিম ছিলেন মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। দেশ ও মানুষের প্রতি ছিল তাঁর ভালোবাসা। অন্যের জীবন রক্ষায় তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতো বীর পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বাংলাদেশ গর্ববোধ করে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের কথা চিন্তা করে তাঁদের উপযোগী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন রবিউল। তাঁর এই উদ্যোগ সবার জন্য অনুকরণীয়।’
স্মরণসভায় এসপি মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, ‘রবিউলের উদ্যোগগুলো রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’
‘ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সহ্য করা হবে না’ উল্লেখ করে এসপি বলেন, ‘ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা যা এখন তৈরি হয়েছে, তা আগে ছিল না।’
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার কাটিগ্রাম মাঠ থেকে শোকযাত্রা বের করা হয়। এতে নিহত রবিউল করিমের সহপাঠী-বন্ধু, স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
শোকযাত্রাটি রবিউল করিমের সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ব্লুমস পরিচালনা কমিটির সভাপতি জি আর শওকত আলী সভাপতিত্বে এবং রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির পরিচালক ও ব্লুমসের সদস্য আবদুল আলীম খান, জি আর শওকত আলী প্রমুখ।
আবদুল আলীম খান বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রবিউলের স্বপ্ন ছিল। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের যথাযথভাবে সেবা এবং তাদের পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখতেন। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি।’
জি আর শওকত আলী বলেন, রবিউল আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কিছু অসম্পন্ন কাজ রয়ে গেছে। সেই কাজগুলোর পূর্ণতা আমাদেরই করতে হবে।’
স্মরণ সভায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান, জেলার বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার অপু মোহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) নূরজাহান লাবনী উপস্থিত ছিলেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে রাখে জঙ্গিরা। খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এসি রবিউল করিম। এ সময় জঙ্গিদের ছোড়া গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতে তিনি নিহত হন।
একই ঘটনায় বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিনও নিহত হন।