মামলাজট নিরসনে সংশোধিত হচ্ছে দেওয়ানি আদালত আইন
বিচারকদের এখতিয়ার (জুরিসডিকশন) বাড়িয়ে মামলাজট কমাতে এবার দেওয়ানি আদালত আইন [সিভিল কোর্ট অ্যাক্ট ১৮৮৭] সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই মধ্যে ১৮৮৭ সালের দেওয়ানি আদালত আইনের সংশোধনী প্রস্তাব আইনমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার যেকোনো বৈঠকে তা উপস্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সচিবাললের একটি সূত্র।
প্রস্তাবে দেওয়ানি আদালত আইন ১৮৮৭-এর ১৯ ও ২১(১) নম্বর ধারা সংশোধন করে সহকারী জজের বিচার্য মামলায় সম্পত্তির সর্বোচ্চ মূল্যমান দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বিচার্য মামলায় সম্পত্তির সর্বোচ্চ মূল্যমান চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা এবং জেলা জজের বিচার্য মামলায় সম্পত্তির সর্বোচ্চ মূল্যমান পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৮৮৭ সালের দেওয়ানি আদালত আইনের ১৯ ও ২১(১) ধারা অনুযায়ী বর্তমানে একজন সহকারী জজ দুই লাখ টাকা, জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ চার লাখ টাকা এবং জেলা জজ সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার রাখেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব বলেন, বর্তমানে সব সম্পত্তির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। এখতিয়ার না থাকায় অধস্তন আদালতের এ বিচারকরা দায়ের হওয়া অধিকাংশ মামলাই নিষ্পত্তি করতে পারছেন না বলে আদালতগুলোতে মামলা জমে যাচ্ছে। এ কারণে বিচারকদের এখতিয়ার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ধরা যাক, এক বাদী এক বিঘা জমির মালিকানা দাবি করে আরেক ব্যক্তিকে আসামি করে জেলা জজের আদালতে মামলা দায়ের করল। এ জমির মূল্যমান যদি পাঁচ লাখ টাকা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে জেলা জজ মামলাটি আমলে নিয়ে নিষ্পত্তি করতে পারবেন। কিন্তু জমির দাম পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তা উচ্চতর আদালতে পাঠিয়ে দেবেন।
সে ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে যান। তা ছাড়া ১৮৮৭ সালের পর আইনের এই ধারা দুটি আর সংশোধন করা হয়নি। অথচ এখন সব কিছুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তাই আইনটি সংশোধন করে বিচারকদের এখতিয়ার বাড়ানো হলে বহু মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের হয়রানিও অনেকখানি হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন ওই কর্মকর্তা।

এম এ নোমান