ঘরে স্বামীর ঝুলন্ত লাশ, হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের বাড়ি থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জামিরুল ইসলাম (৩১) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোসনা তাঁর স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের ঘরজামাই জামিরুল ইসলাম সোমবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম প্রচার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় জামিরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ করলে পুলিশ সোমবার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জোসনা বেগমকে আটক করে।
জামিরুলের বৃদ্ধ বাবা মোজাম্মেল হক একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সানাউল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ ওই মামলায় জোসনাকে গ্রেপ্তার দেখায়।
এ ব্যাপারে নিহতের চাচা বেলাল হোসেন আজ মঙ্গলবার জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল চত্বরে অভিযোগ করেন, জামিরুলের স্ত্রী জোসনা বেগমের সঙ্গে এক যুবকের পরকীয়া প্রেম ছিল। অনৈতিক কাজে তাঁরা ধরাও পড়েন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দেন-দরবারও হয়। তারপরও জোসনা বেগম অনৈতিক পথ থেকে সরে না এলে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এই জের ধরে প্রেমিকের সহযোগিতায় জোসনা বেগম তাঁর স্বামী জামিরুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে ঘটনাটিকে জামিরুল আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন জোসনা।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে মরদেহ নিতে এসে নিহতের আরেক চাচা সানাউল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করে জামিরুল আক্কেলপুর উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রাম থেকে উঠে এসে শ্বশুরবাড়ি মহব্বতপুর গ্রামে বাড়ি করে বসবাস করেন। তাঁর আট-নয় বছর বয়সের একটি ছেলেসন্তানও আছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বাধা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হলো বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ক্ষেতলাল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম জানান, পরকীয়ার কারণে জোসনা বেগম স্বামীকে খুন করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সানাউল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট