‘নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে মানুষকে সেবা দিতে পারাই আমাদের ঈদ’

ঈদের আনন্দ মানেই প্রিয়জনের সান্নিধ্য। কিন্তু হাজারো মানুষের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দেন একদল মানুষ। নাড়ির টানে যখন নগরবাসী বাড়ির পথে ছোটে তখন নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকেন তারা।
তাদেরই একজন পুুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ না থাকলেও মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরার দৃশ্যেই সুখ খুঁজে পান তিনি।
মঞ্জুরুল বলেন, ‘সবার পরিবার আছে, সবাই চায় প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। আমাদেরও ইচ্ছা করে। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করাই আমাদের আনন্দ।’
এই পুলিশ সদস্য আরও জানান, ঈদের ছুটিতে ৩০ শতাংশের কম পুলিশ সদস্য ছুটি পান। অনেকে দুই ঈদের এক ঈদে ছুটি পান। কারও কারও আবার এক ঈদেও ছুটি মেলে না।
ঈদে বাড়িফেরা নিয়ে কথা হয় তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিকের চাকরি কষ্টের। রোজা রেখে এই দায়িত্ব পালন করা আরও কষ্টের। তবে ঈদে ছুটি পেলে কষ্টটা দূর হয়ে যায়। ভালো লাগে তখন।’
আগামী ৩১ মার্চ থেকে ঈদের ছুটি মঞ্জুর হয়েছে ইব্রাহিমের। রোজা ২৯টি হলে ওইদিনই ঈদ হওয়ার কথা। অবশ্য এ নিয়ে আক্ষেপ নেই তার। জানালেন, ঈদে বাড়ি ফিরতে পারবেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন, এটাই আনন্দের।
প্রমোদ চন্দ্র বর্মন নামে ট্রাফিক পুলিশের আরেক সদস্য জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে পুলিশের চাকরি করেছেন। হিন্দু ধর্মের হওয়ায় ঈদে কখনও ছুটি পাননি। তবে হিন্দু ধর্মের উৎসবে ছুটি পেয়েছেন।
প্রমোদ বলেন, ‘ঈদে তো আমরা ছুটি পাই না, অবশ্য ছুটি চাইও না। কারণ আমি ডিউটি দিলে আমার একজন মুসলমান ভাই ছুটি কাটাতে পারবেন। তাতে তিনি খুশি হবেন। তাই আমরা আনন্দের সঙ্গেই ডিউটি করি প্রতিটি ঈদে।’
ঈদকে ঘিরে নগরবাসীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজন থাকে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘ডিএমপি সকল সদস্যদের জন্য ঈদের দিন বা তার পরে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাদের জন্য ভালো কিছু করার।’
আসন্ন ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি থাকছে। ইতোমধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। এই লম্বা ছুটিতে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ সময় মহানগরে অন্তত ১৫ হাজার পুলিশ তৎপর থাকবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঈদ ঘিরে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। এতে বাসাবাড়ি, ফ্ল্যাট ও অফিস ফাঁকা হয়ে যাবে। ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে নগরবাসী। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি—এই ভয়ের অন্যতম কারণ। এসব বিষয় মাথায় রেখে ঈদের আগে ও পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে ডিএমপি।