ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটেনি নরসিংদী জেলাবাসীর
শুক্রবার স্মরণকালের সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প দেখলো নরসিংদী জেলার বাসিন্দারা। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কটেনি। প্রতিনিয়ত উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে এই জেলার মানুষ।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে পুরো জেলা কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। ভূমিকম্পে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপর ট্রান্সফরমারগুলোর বেশির ভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে উৎপত্তিস্থল হিসেবে সেখানে একাধিকবার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জেলার মানুষজন আরও বেশি আতঙ্কে ভুগছে।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) নরসিংদীর পলাশ ও মাধবদী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে জেলার বিভিন্ন উঁচু ভবন ও স্থাপনা। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ক্যম্পাস আঙিনায় মাটি দেবে গেছে। প্রধান ফটকের সামনের একটি টিনসেডের চালাঘরের ভিটি ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেছে। ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের ভেতরে মাটিতে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখানকার মাটি ফেটে ভাগ হয়ে গেছে। মাটি কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি ফাঁক হয়ে গেছে। এছাড়া ঘোড়াশাল তাপবিদুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগে যায়। তাপবিদুৎ কেন্দ্রের বেশ কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সাথে ঘোড়াশাল এলাকার ছয়টি বাড়ি ও এস এ প্লাজা নামে একটি সাততলা শপিং মলে ফাটল ধরে। পাশাপাশি ঘোড়াশাল বাজারের বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে দেয়ালের ইট পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নরসিংদী শহর, মাধবদী, পলাশ ও ঘোড়াশালে একাধিক ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের সময় ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নরসিংদী শহরের গাবতলী এলাকায় ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে এক তলা ভবনের ওপর পড়েছে। ওই সময় ঘর থেকে বের হতে গিয়ে বাড়ির মালিক দেলোয়ার, ছেলে ওমর ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাবা ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় নেওয়ার পর বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের সকল তথ্য পেয়ে যাব। অন্যদিকে নিহতদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থাসহ ২৫ হাজার টাকা করে পরিবারে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। একই সাথে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ’
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে নরসিংদীতে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক লোকজন।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী