শীর্ষ সন্ত্রাসী সৈকত গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২৩ মামলার আসামি লালু-সৈকত গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ সৈকতকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকা থেকে সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সৈকত মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সৈকতকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন হোগলাকান্দি গ্রামে তার বসতঘর থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, গ্রেপ্তার সৈকত চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের জয় সরকার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের ২৬ নভেম্বর রাতে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে টিকটক ভিডিও বানানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জয় সরকার (২৫) নামে এক তরুণকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। গত বুধবার র্যাব-৩ দিনভর অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি লালুকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে র্যাব-১১ এর একটি দল নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তার সহযোগী শাকিল, আলাউদ্দিন ও জসিমকে গ্রেপ্তার করে। সর্বশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হল লালু–সৈকত গ্রুপের আরেক সদস্য সৈকত।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ