খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেপালে খোলা হয়েছে শোক বই
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোক বই খোলা হয়েছে। দেশটিতে যথাযথ মর্যাদায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ দূতাবাস প্রাঙ্গণে শোক বই খোলা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার। এ ছাড়া দেশটিতে নিযুক্ত ভারত, পাকিস্তান, মিশর ও শ্রীলঙ্কার কূটনীতিকসহ নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।
শোক বইতে স্বাক্ষরের সময় কূটনীতিকরা নিজনিজ দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন।
এ ছাড়াও শোক বইতে আরও স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ-নেপাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় নেপাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য ত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় দেশের আপামর জনতা অংশ নেন। জানাজায় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের ঢল নেমেছিল।

জাহিদুর রহমান