তুলির আছে নগদ ৮৩ লাখ টাকা, স্বামীর এক কোটি ৫৭ লাখ
ঢাকা-১৪ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সানজিদা ইসলাম তুলি।
বিএনপির রাজনীতিতে সানজিদা ইসলাম তুলি আলোচিত নাম না হলেও, একজন তরুণ সমাজকর্মী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের পরিচিত মুখ তিনি। তুলি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান ‘মায়ের ডাক’ আন্দোলনের সমন্বয়কারী হিসেবে।
আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় গুম হওয়া বিএনপিনেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট বোন তুলি। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থেকে গুম হন সাজেদুল ইসলাম সুমন। ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তুলি যুক্ত হন ‘গুম-বিরোধী’ আন্দোলনে। ধীরে ধীরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারের দাবির আন্দোলনে এক সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
তুলি মানবাধিকার-কেন্দ্রিক নানান আন্তর্জাতিক ফোরাম ও গণমাধ্যমে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে কথা বলেছেন। বিশেষ করে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি তার নেতৃত্বে গুমের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরে।
বিএনপির রাজনীতিতে তুলির আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলক নতুন হলেও, দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলি ইতোমধ্যে একটি পরিচিত মুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি পেশায় গৃহিণী। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার প্রায় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তুলির বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা।
তুলির সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (টেক্সটাইল)। গৃহিণী হলেও তার আগের পেশা ছিল বেসরকারি চাকরি। তার নামে একটি মামলা রয়েছে, যেটির তদন্ত করছে পিবিআই।
একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও গাড়ি রয়েছে তুলির। কোনো কৃষিজমি নেই তার নামে। নির্ভরশীল হিসেবে থাকা স্বামীর বার্ষিক আয় ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে তুলির বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা।
তুলির কাছে নগদ অর্থ আছে ৮৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৬২ টাকা। তার স্বামীর কাছে আছে এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪১ টাকা।
দায় হিসেবে তুলির ক্রেডিট কার্ড আছে, যার পরিমাণ পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ টাকা। এছাড়া স্বামীর নামে আছে চারটি ক্রেডিট কার্ড, যার মোট পরিমাণ ২০ লাখ টাকার বেশি। সরকারি কোনো পাওনা নেই তুলির।
এছাড়া তুলির ১০ ভরি ও তার স্বামীর ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে তুলি আয়কর দিয়েছেন ৮৮ হাজার ৫৭৫ টাকা। আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার স্বামীর সম্পদের পরিমাণ দুই কোট ৮৪ লাখ টাকার বেশি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক