শেখ হাসিনার আরও দুই মামলার রায় সোমবার
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলার রায় আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করবেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ থেকে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টায় দুই মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। গত ১৩ জানুয়ারি ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম প্লট জালিয়াতির দুই মামলায় রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন।
মামলা দুটিতে শেখ হাসিনা প্রধান আসামি। এ ছাড়া তার পরিবারের অন্য আসামিরা হলেন—টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক।
শেখ হাসিনার একটি মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
অপর মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এ মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া। মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামিরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর প্লট জালিয়াতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার সাত বছর করে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া সাজীব ওয়াজেদ জয়কে এক মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
গত ১ ডিসেম্বর অপর এক মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর, শেখ হাসিনার পাঁচ বছর, তার বোন শেখ রেহানার সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

আদালত প্রতিবেদক