চৌদ্দগ্রামে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে হামলা-ভাঙচুর
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের ফকির বাজারে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়ন ফকির বাজার শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সভায় এ অভিযোগ করে।
জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্বাচনোত্তর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে যে সহিংস ঘটনা শুরু হয়েছে তা আমাদের কারোই কাম্য ছিল না। নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। যিনি জয় লাভ করবেন তিনি সব জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্বে ও কল্যাণে কাজ করেন। আপনারা অবগত আছেন জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে নির্বাচনের আগে এবং পরে কেমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গত রাতে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন ফকির বাজারে আমাদের শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, পথে পথে বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি, ভোট প্রদানের বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন এমন কোনো হীন কাজ নেই যা তারা করেনি। নির্বাচন শেষ করার পর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে যে তাণ্ডব তারা চালিয়েছে আরাফাত রহমান কোকো নির্বাচনি অফিস ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভেঙে ক্রমান্বয়ে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির আব্দুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সারা বাংলাদেশ যখন স্বাধীন তখনও চৌদ্দগ্রাম স্বাধীন হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পরও চৌদ্দগ্রামে বিএনপি পরিবার স্বাধীন না। রোববার রাতে ঢাকাতে জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান চৌদ্দগ্রামের এমপি নায়বে আমির ডা. তাহেরকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে নিলেন আর এমপি সাহেবের লোকজন রাতেই সেই বিএনপি অফিস ভাঙচুর করল। এটাই হচ্ছে তাদের আসল রূপ। আমরা বিএনপি পরিবার তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি চৌদ্দগ্রামের দিকে দৃষ্টি দেন, আপনার নেতাকর্মীরা ভালো নেই।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুদিন আগেই জামায়াত শিবিরের লোক পায়ের খোলার ছাত্তার মিয়ার ছেলে রনি আমার গলায় ছুরি ধরে বলে নির্বাচনে এজেন্টের দায়িত্বে থাকা যাবে না। নির্বাচনের দিন মাগরিবের সময় আমাকে একা পেয়ে কিল ঘুষি লাঠি দিয়ে প্রহার ও ছুরি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে ভয়ে আমি অন্যের বাড়ি ছাদের ওপরে একদিন একরাত অবস্থান করি। পরে আমি পুলিশকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যায়। আমি প্রশাসনেরকাছে সঠিক বিচার চাই।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মুখলেসুর রহমান রানা, ইকবাল হোসেন সোহেল, পাভেল হাসান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মেম্বার, ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সদস্য কবির হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন সহিদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি দাউদ ইসলাম, উপদেষ্টা আবুল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, মজুমদার আব্দুল লতিফ ইকবাল হোসেন সোহেল প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামাতের সাধারণ সম্পাদক মু. বেলাল হোসাইন জানান, কে বা কারা তাদের অফিস ভাঙচুর করছে তারা দেখে নাই, আমরাও দেখি নাই। রাতে অন্য কেউ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের দোষারোপ করতেও পারে। একটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য চেষ্টা করছে, এই অস্থিরতা কেউ সৃষ্টি করতে পারবে না।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কাউসার জানান, নির্বাচনের আগে সহিংস ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকালের ঘটনা আমার জানা নেই।

মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম)