ইরানে দীর্ঘমেয়াদি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই ইরানের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী এক টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশ দুটির মধ্যে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে।
পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সামরিক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বলেছেন, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইলেও তেহরানের সঙ্গে তা করা ‘খুবই কঠিন’।
এদিকে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে হাজার হাজার সৈন্য, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ ও বড় ধরনের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা চালাতে সক্ষম বিশাল অগ্নিশক্তি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটিই (সরকার পরিবর্তন) সবচেয়ে ভালো জিনিস হতে পারে।’ সেখানে কে ক্ষমতা নেবে তা নির্দিষ্ট না করলেও তিনি বলেন, ‘সেখানে মানুষ আছে।’
ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসলেও, বর্তমান প্রস্তুতি মূলত বিমান ও নৌবাহিনীর মাধ্যমে হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব বিকল্প খোলা রয়েছে।’ তবে পেন্টাগন এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের পরিকল্পনা গত জুনের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। জুনের অভিযানে কেবল পারমাণবিক স্থাপনায় বোমারু বিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু এবারের সম্ভাব্য অভিযানে পারমাণবিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতেও আঘাত করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ ইরানের কাছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা-পাল্টি হামলার চক্র তৈরি করতে পারে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
ইরানি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধ নেবে। উল্লেখ্য, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই ইসরায়েলের স্বার্থের প্রতিফলন থাকতে হবে।
ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি এই সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই আক্রমণ প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণ রাস্তায় নেমে এসে বর্তমান শাসনের পতন ঘটাবে।’
ইরান সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে বলেও দাবি করেন রেজা পাহলভি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক