হরমুজ প্রণালি পাহারার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ দিতে হবে : ট্রাম্প
বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার ঘোষণার পরপরই তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ শিরোনামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই প্রণালিটির অভিভাবক হতে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এতদিন বিনা পয়সায় এটি পাহারা দিয়ে আসছিল, তবে এখন ধনী দেশগুলো এর খরচ পরিশোধ করবে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য টাকা পাব। প্রচুর টাকা। আমরা শুধু এই পুরো কাজটির জন্য এবং আমাদের লোকজনকে ঝুঁকিতে ফেলার বিনিময়ে এই খরচ ফেরত পেতে চাই।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নজিরবিহীন মাত্রার পাল্টাপাল্টি হামলার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য এলো। এই সংঘাতের ফলে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের প্রচেষ্টাগুলো এখন বড় ধরনের সন্দেহের মুখে পড়েছে।
গত সপ্তাহের যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্য রুটটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মূল বিরোধ চলছে।
আজ সোমবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানি আলোচনাকারীদের কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সপ্তাহান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনায় যা চূড়ান্ত হয়েছিল, ইরানিরা তার মধ্যে পরিবর্তন আনতে চাইছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। তাদের কাছে কিছু নেই, তারা সম্পূর্ণ রিক্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল তাদের ১১ ঘণ্টার একটি বৈঠক ছিল... এবং গতকাল সবকিছুতেই সম্মতি হয়েছিল। কিন্তু তারা আলোচনার কক্ষ থেকে বের হয়েই আবার ফোন করে এবং বলে যে, সিদ্ধান্তের বিষয়ে কয়েকটি পরিবর্তন আনতে হবে।’ তবে কী ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ সোমবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি যেন আরও তীব্র রূপ না নেয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অনড় অবস্থানে থেকে বলছে যে, এটি সামুদ্রিক যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক