গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতির পর ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তার নতুন গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববারের (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। খবর আল জাজিরার।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত তাবু লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার পূর্বাঞ্চলের গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের কমান্ডার সামি আল-দাহদুহ নিহত হয়েছেন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই হামলাকে ‘নতুন গণহত্যা’ এবং ‘অপরাধমূলক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অকার্যকর প্রমাণ করতে এবং স্থিতিশীলতার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে এ হামলা চালানো হয়েছে।
গাজার কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ৬০৭ জন আহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুক্তি লঙ্ঘনের অন্তত এক হাজার ৬২০টি ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল হামাসকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে জানায়, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার গঠিত বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠক বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে জানান, বোর্ডের সদস্যরা গাজা পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়নের বেশি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশে হাজারো কর্মী নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বোর্ডে যোগ দিতে দেশগুলোর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দেশ হিসেবে অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং কুয়েত যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রোজিল্যান্ড জর্ডান জানান, বোর্ডের ২০ সদস্যের মধ্যে কতজন বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তা ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি।
প্রাথমিকভাবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে বোর্ডটি পরিকল্পনা করা হলেও এখন এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত সমাধানের বৃহত্তর উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অনেক মার্কিন মিত্র দেশ এতে যোগ দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর একটি মার্কিন প্রচেষ্টা হতে পারে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, হামাসকে পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে হামাস বোর্ড অব পিসকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক