নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যালয় ভবনে শতাধিক ফাটল
গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেয়ালে ছোট-বড় অন্তত ১০০টি ফাটল দেখা দিয়েছে। আঁকাবাঁকা পিলার দিয়ে নির্মিত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনের এই দশা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৩৮নং কাঁঠালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের কাজ পায় ‘মুশফিকুর রহমান কাঞ্চন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ভবনের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ভবনের দুটি কক্ষে শতাধিক ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে। সিঁড়ি ও ছাদসহ ভবনের এমন কোনো অংশ নেই যেখানে ফাটল ধরেনি। এমনকি ভবনের দুটি পিলারও আঁকাবাঁকা অবস্থায় রয়েছে।
৩৮নং কাঁঠালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিটিআই কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের দাবির মুখে একটি পিলার দুইবার ভেঙে পুনরায় করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফাটলগুলো দেয়ালের এক পাশ থেকে অন্য পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
স্কুলের দাতা সদস্য আবুল কাশেম বলেন, একটি ছোট ভবনে ১০০টি ফাটল থাকা কল্পনা করা যায় না। শুরুতে বাধা দিলেও আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা চাই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হোক।
অভিভাবক সদস্য হাফিজ উদ্দিন তালুকদার জানান, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির প্রশ্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের কাজ করে পার পেয়ে যাচ্ছে, যা শিশুদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, নির্মাণ কাজে অনিয়ম দেখে তিনি অভিভাবক ও স্থানীয়দের নিয়ে বাধা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)