মূল্য তালিকা ও বিক্রয় রশিদ না থাকায় তেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র, মূল্য তালিকা ও বিক্রয় রশিদ না থাকায় এক তেল ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রোববার (২২ মার্চ) বেলা পৌনে ১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের কুমারখালী পৌরসভার বাটিকামারা তরুণমোড় এলাকার মেসার্স দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করে উপজেলা প্রশাসন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করে থানা পুলিশ।
এ দিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, কুমারখালীর পাম্পগুলোতে পাওয়া যাচ্ছেনা জ্বালানি তেল, পেট্রল ও অকটেন। তবে খোলাবাজারের দোকানগুলোতে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে তেল। আর পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত শুক্রবার থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়া-রাজাবাড়ী সড়কের কুমারখালীর বাটিকামারা এলাকায় শিপলু ও কাজীপাড়া এলাকায় গাজী নামের দুটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। লাহিনীপাড়া-সান্দিয়ারা সড়কের যদুবয়রা জয়বাংলা এলাকায় মজিবর রহমান নামের আরও একটি পাম্প রয়েছে। তবে পাম্পগুলোতে গত শুক্রবার থেকে পেট্রল ও অকটেন তেলের সংকট চলছে বলে জানিয়েছে মালিকপক্ষ।
এ বিষয়ে কুমারখালী দুর্গাপুর এলাকার মোটরসাইকেল চালক মামুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল নেই। ঈদের দিন দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্স ২৫০ টাকায় এক লিটার তেল দিয়েছে। পাম্পে তেল না থাকায় খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্সের মালিক দ্বীনবন্ধু বলেন, ‘কারো কাছ থেকেই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়নি। প্রমাণ দিতে পারবে না কেউ।’
আজ দুপুরে শিপলু ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে প্লাস্টিক ও টিনের ড্রাম সারিবদ্ধভাবে রাখা। তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে ভোক্তারা।
শিপলু ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বলেন, গত শুক্রবার সকালে তিন হাজার লিটার তেল পেয়েছিলাম। যা মাত্র ৬ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে পাম্পে পেট্রল ও অকটেন নেই। গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার বলেন, গ্রাহকরা জ্বালানির অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করলেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি। আবার ওই ব্যবসায়ীও অভিযোগ স্বীকার না করায় এ বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। তবে মূল্য তালিকা না থাকা এবং লেনদেনের রশিদ সংরক্ষণ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ওই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর কঠোরভাবে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, আতঙ্কে এক ব্যক্তি একাধিকবার পাম্প থেকে তেল নিচ্ছেন। ফলে পাম্প থেকে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)