সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে পচা ধানই ভরসা জমিরুন বেগমের
টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরের একমাত্র ফসল এখন পানির নিচে। তলিয়ে যাওয়া সেই ধান পচে গিয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। তবুও বজ্রপাতের ভয় আর শ্রমিক সংকট উপেক্ষা করে সেই পচা ধানই ঘরে তোলার আকুল চেষ্টায় নেমেছেন হাওরপাড়ের কৃষক-কৃষাণীরা। তাঁদের চোখেমুখে এখন শুধুই বেঁচে থাকার অনিশ্চিত লড়াই।
সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। খলায় জমে থাকা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ধান বেছে পরিষ্কার করছিলেন ৪৫ বছর বয়সী জমিরুন বেগম। পচা ধান কেন নিচ্ছেন—জানতে চাইলে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “আমরা ক্ষুধা সহ্য করতে পারলেও ছেলেমেয়েরা তো পারবে না। ঘরে অন্য খাবার নেই, এই নষ্ট ধানটুকু দিয়েই তাদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
একই হাহাকার শোনা গেল জোৎস্না আক্তারের (৫৫) কণ্ঠেও। ৬ কিয়ার জমির মধ্যে ৪ কিয়ারই তাঁর পানির নিচে। কিস্তি নিয়ে চাষ করা ফসল হারিয়েও তিনি হাল ছাড়তে রাজি নন। তিনি বলেন, “জীবন মানেই লড়াই, আবারও ঘুরে দাঁড়াতে হবে।” অন্যদিকে কৃষক রুবেল হোসেন সব আশা ছেড়ে দিয়ে এখন কেবল সরকারের সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
বৃষ্টিতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, বন্যার শঙ্কা
জেলায় দুদিন বৃষ্টি বন্ধ থাকার পর শুক্রবার ভোররাত থেকে আবারও শুরু হয়েছে মুষলধারে বর্ষণ। এতে নতুন করে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে আরও অন্তত ২ হাজার হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হাওরের ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, কিন্তু বাকি ৪০ শতাংশ ফসল বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা যেমন ধান কাটতে পারছেন না, তেমনি কাটা ধান শুকাতেও পারছেন না। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সুরমা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১.৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা বড় ধরনের বন্যার রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ