৬ ঘণ্টায় ৬০০ টন বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্যবাহী গাড়িতে এনসিসি প্রশাসক
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেও পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত নগরী গড়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি)। ঈদের দিন সকাল থেকেই নগরজুড়ে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সরাসরি মাঠে নামেন সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। তবে তিনি কেবল দূর থেকে তদারকিই করেননি, নিজেই বর্জ্যবাহী ড্রাম্প ট্রাকে চড়ে নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও কর্মীদের উৎসাহ দেন। প্রশাসকের এমন সরাসরি ব্যতিক্রমী অংশগ্রহণ পুরো নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি করপোরেশনের তিনটি অঞ্চলের (নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর) প্রায় ৬০০ টন কোরবানির পশুর বর্জ্য মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। এই বিশাল ও দ্রুত কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে একযোগে মাঠে নেমেছিল সিটি করপোরেশনের প্রায় ৮০টি ট্রাক, ভেকু (এক্সকাভেটর) এবং বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
কোরবানির ঈদের দিন সাধারণত যত্রতত্র বর্জ্য জমে নগরজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হলেও, এবার সিটি করপোরেশনের অভাবনীয় গতি ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শহরবাসী। সকাল থেকেই চাষাঢ়া, দেওভোগ, খানপুরসহ সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখা যায়। কোথাও ট্রাকে বর্জ্য তোলা, আবার কোথাও বর্জ্য সরানোর পর পর ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশাসক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
মাঠপর্যায়ে বর্জ্যবাহী গাড়িতে থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর নগরী উপহার দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঈদে মানুষ যাতে বর্জ্যের দুর্গন্ধ বা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে এবং পরিবেশ দূষণ যেন না হয়, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রেকর্ড সময়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ করেছি। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উৎসবের দিনও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই সাথে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য।”
মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, স্বয়ং নগর অভিভাবক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বর্জ্যের গাড়িতে চড়ে সরাসরি ময়লা পরিষ্কারের কাজ তদারকি করতে দেখে তাঁদের মাঝেও কাজের বাড়তি উদ্দীপনা ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হয়েছে।
নগরের স্থানীয় বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের এই অভাবনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অনেক গোছানো ও দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ফলে ঈদের বিকেলেই রাস্তাঘাট পরিষ্কার হয়ে গেছে এবং মশা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)