‘চোখ’ বলবে শিশুদের কথা
নতুন প্রজন্ম আর সবুজ পৃথিবীর জন্য ‘চোখ’ চলচ্চিত্রে হাসানের ভাবনাজুড়ে শিশুর বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী। শহরজুড়ে হাসান দেখতে পায় শিশুদের খেলার মাঠসহ অন্যান্য বিচরণ ক্ষেত্রগুলো কী করে সংকুচিত হচ্ছে। প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তিনি এমন শিশুরও সন্ধান পান যে বছরে একবার সবুজের সান্নিধ্যে যায়নি। ওই সব শিশুর চোখ পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সবুজের সান্নিধ্যবঞ্চিত শিশুদের অনেকে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা বয়ে চলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া এলাকাগুলোতে প্রতিযোগিতার নামে শিশুদের ওপর চলে অভিভাবকদের শারীরিক ও মানসিক চাপ। প্রতিটি শিশুকে যেন একাধারে ক্লাসে, নাচে, গানে এবং অভিনয়ে ফার্স্ট হতে হবে। স্কুল কারিকুলাম, অন্যান্য অ্যাকটিভিটিস এবং অতি অল্প বয়সে টেলিভিশন, মোবাইল বা ট্যাবের যথেষ্ট চাপে শিশুরা কোণঠাসা।
‘চোখ’ চলচ্চিত্রে হাসান দেখেন যে ভার্চুয়াল অ্যাকটিভিটির কারণে পৃথিবীটা শিশুদের হাতের মুঠোয় থাকলেও তাদের বাস্তবিক জগৎটা সংকুচিত হয়ে আসছে। তবে হাসানের অবস্থান তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর যুক্তি হচ্ছে শিশুদের মোবাইল-ট্যাবের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। শিশুর আশ্রয়স্থল পৃথিবীর ওপর মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব সাংবাদিক হাসানের উদ্বেগের আরেকটি কারণ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ‘চোখ’ চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে আহত হাসান রাজধানী শহর ছেড়ে চলে যান পাহাড়ের কাছে। সেখানে প্রকৃতির কোলে তিনি শিশুদের একটি স্কুল চালু করেন। এই চলচ্চিত্রে রয়েছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে শহুরে শিশুদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপের ফলে তাদের মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার অনেক তথ্য।
মুহম্মদ মোফাজ্জলের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে চলছে ‘চোখ’ চলচ্চিত্রের শুটিং। চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য হবে দেড় ঘণ্টা। এই চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র হাসানের ভূমিকায় রয়েছে মহিম মিজান। অন্য চরিত্রে আরো রয়েছেন আইরিন তানি, চন্দন রেজা, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, মাহমুদা মৌমিতাসহ টোকাই নাট্যদলের কিছু কর্মী।

মাজহার বাবু