বাহুবলিতে অভিনয়ে ছিলেন পরিচালক রাজমৌলিও
বাহুবলির জয়রথ ছুটে চলছেই। আর এই জয়রথের পেছনের কারিগর ছিলেন এস এস রাজমৌলি। সবাই রাজমৌলির পরিচালনার তারিফ করলেও বাহুবলিতে তিনি কেমন অভিনয় করলেন সেটা নিয়ে কথা বলেননি কেউ। অনেকে হয়তো জানেনই না বাহুবলির একটি ক্ষুদ্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজমৌলি। হ্যাঁ তিনি অভিনয় করেছেন বাহুবলিতে। ‘বাহুবলি : দ্য বিগিনিং’-এ একজন মদ বিক্রেতার চরিত্রে দেখা গেছে গুণী এই পরিচালককে।
যাদের এখনো মনে পড়ছে না তাদের ফিরে যেতে বলব ‘বাহুবলি : দ্য বিগিনিং’য়ের ‘মনোহরি’ গানটির আগে। যেখানে অমরেন্দ্র বাহুবলি চরিত্রে অভিনয় করা প্রভাস সরাইখানার একজন মদ বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক করছিলেন, যাতে তাকে বেশি পরিমাণে মদ দেওয়া হয়। আর এই মদ বিক্রেতাই হচ্ছেন বাহুবলির পরিচালক এস এস রাজমৌলি। তবে ‘বাহুবলি : দ্য বিগিনিং’য়ের মতো ‘বাহুবলি : দ্য কনক্লুশনে’ দেখা যায়নি ‘মাগাধীরা’ খ্যাত এই পরিচালককে।
এদিকে দ্বিতীয় সপ্তাহেও একই আবেদন ধরে রেখেছে বাহুবলি-২। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি খবরে জানা যায় প্রভাস এবং রানা দাগুবতি অভিনীত এই ছবিটির হিন্দি সংস্করণ দ্বিতীয় সপ্তাহে আয় করেছে প্রায় ১৪১ কোটি রুপি। ফলে শুধু ভারতে ছবিটির হিন্দি সংস্করণের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮৬ কোটি রুপি।
প্রথম সপ্তাহে টিকিট কাউন্টারে দর্শকের হিড়িক পড়ে যাওয়া ছবিটি আয় করেছিল প্রায় ২৪৫ কোটি রুপি। যা ভেঙে দিয়েছিল বিগত সব রেকর্ড। দ্বিতীয় সপ্তাহেও রেকর্ড ভাঙার সে ধারা বজায় রেখেছে বাহুবলি। দ্বিতীয় সপ্তাহের শুক্রবারে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ২০ কোটি রুপি, ছয় কোটি বেড়ে সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন শনিবার যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ কোটি রুপিতে। রোববার ও সোমবারে ছবিটির সম্মিলিত আয় ছিল প্রায় ১৬ কোটি রুপি।
দ্বিতীয় সপ্তাহেও বাহুবলির এমন উন্মাদনা দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি প্রথম খণ্ডে অভিনয় করা পরিচালক এস এস রাজমৌলি। সর্বশেষ প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাহুবলি চরিত্রটি নাকি প্রভাসকে মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে আমরা (প্রভাস এবং রাজমৌলী) একটি ছবিতে কাজ করেছিলাম, ফলে আমরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যাই। আমরা গভীর রাত পর্যন্ত একসঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করতাম। আমাদের আলোচনা যে শুধু বাহুবলি নিয়ে হতো তা কিন্তু নয় বরং আমরা ছবি নির্মাণের বিভিন্ন দিক, ছবি নির্মাণের দর্শন নিয়ে আলোচনা করতাম।’
ছবিটির জন্য প্রভাসের আত্মত্যাগ সম্পর্কে রাজমৌলী বলেন, ‘এমনকি সে (প্রভাস) এতটাই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল, যখন আমি ছবিটির জন্য তার কাছে দেড় বছর সময় চাই তখন সে হেসে বলে ওঠে তুমি কখনই এই সিনেমা দেড় বছরে নির্মাণ করতে পারবে না এবং সে নিজেকে প্রায় সাড়ে তিন বছরের মতো অন্যান্য কাজ থেকে দূরে রাখে। সবশেষে ছবিটি নির্মাণ করতে আমার প্রায় পাঁচ বছর লেগে যায় এবং সে ছবিটির জন্য সবসময় আমাদের পাশে ছিল।’
বাহুবলি ছবির প্রথম খণ্ড ‘বাহুবলি : দ্য বিগিনিং’ মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। ছবিটিতে দেখানো হয় শিবা নামের এক যুবকের কাহিনী। বড় হওয়ার পর যুবক জানতে পারে, সে মাহিশমাতের রাজা অমরেন্দ্র বাহুবলির ছেলে মহেন্দ্র বাহুবলি। ছবিটির প্রথম পর্বে আনুশকা শেঠিকে অমরেন্দ্র বাহুবলির স্ত্রী দেবসেনার ভূমিকায় দেখা যায়। বাহুবলির মৃত্যুর পর তাকে বন্দি করে রাখা হয়। তামান্না ভাটিয়া রয়েছেন মহেন্দ্র বাহুবলির প্রেমিকা অবন্তিকার চরিত্রে।

ফিচার ডেস্ক